মিশন হিউম্যানিটি – একটি স্বপ্নের যাত্রা শুরু।

বাংলাদেশের, দারিদ্র মোচন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, শিশু শ্রমিকদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মিশন হিউম্যানিটির যাত্রা শুরু।
ইতি মধ্যেই তারা শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সেমিনার আয়োজন করেন।রাস্তার শিশু শ্রমিকদের মধ্যে নতুন কাপড় খাওয়া দাওয়া বিতরণ ও একটি সুন্দর দিন তাদের সাথে যাপনের মধ্য দিয়ে মে দিবস উদযাপন করেন ৫ ই মে ধানমন্ডিতে। মিশন হিউম্যানিটি এ বার-ILO এর ঘোষিত বিশ্ব শিশুশ্রম নির্মূল দিবস উদযাপন করেন গত ১২ ই জুন ২০১৮। গুলশান ১ নিকেতন ৬ নং রোড হাউস নং ই ফাইভ। ফ্লাট নং বি ফাইভ এর পার্কিং চত্বরে সেদিন কলকাকলি তে মেতে উঠে ২১ টি বঞ্চিত শিশু কিশোর।মিশন হিউম্যানিটির উদ্যেশ্য ছিল, নিকটবর্তী বস্তির কিছু ভাগ্য বঞ্চিত শিশুদের সাথে ঈদ এর আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া।

যে শিশুদের প্রতিদিনের ৩ বেলা খাওয়া পাওয়া টা অনিশ্চিত তাদের কাছে ঈদ এর আনন্দ জানতে চাইলে তারা হতবাক হয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, উত্তর খুঁজে পায় না, কারণ এইসব ছোট্ট শিশু কিশোরদের ৫ থেকে ১০ বছরের জীবন যাত্রায় ঈদ এর দিনটা বিশেষ কোনো আলোড়ন তোলে কিনা সন্দেহ।সারা ঢাকা শহরের তথা সারা দেশের জাকজমক আলোক সজ্জিত আধুনিক শপিংমল গুলো যখন লোকে লোকারণ্য- প্রতিদিন লক্ষ্য টাকার লেন দেন নিয়ে ব্যস্ত- মিশন হিউম্যানিটির পরিচালক মুনা হক তখন এই ভাগ্য বঞ্চিত বাচ্চাগুলোর জন্য কিছু নতুন কাপড়, আর গল্পের বই কিনতে থাকেন, তাদেরকে নিয়ে ঈদের আনন্দ কি সেই অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে। ‘মানুষের জন্য’ ফাউন্ডেশন এর আব্দুল্লা মামুন এই আয়োজনের পোস্টার ছাপিয়ে সহযোগিতা করেন।আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন সকল পরিচালক ও সাধারণ সদস্যরা- সভানেত্রী রওশন আখতার, পরিচালক- আলেয়া মির্জা, আসমা নওশের,কানিজ সুলতানা, ফেরদৌসি মোস্তফা, জান্নাতুল ফেরদৌস, রওশনারা, নীলিমা জাহান ,সৈয়দা শমসেদ আরা ও ফারহানা পল্লব।

এই বাচ্চাগুলো ময়লার ট্রাক ছাড়া কোনো গাড়িতে আগে উঠার সুযোগ পেয়েছে বলে মনে হয় না।মিশন হিউম্যানিটির সদস্যরা ওদেরকে নিয়ে আসে গন্তব্যে, গাড়ি চড়ে আসাটাও ওদের জন্য এক দারুন নতুন আনন্দের অভিজ্ঞতা।মুনা হক ব্যক্তিগত ভাবে একজন মানব প্রেমী মানুষ, সে এই বিশেষ মুহূর্ত গুলো ক্যামেরা বন্দি করে চলেন-মিশন হিউম্যানিটির আমন্ত্রণে বস্তির বাচ্চাগুলোর উল্লাস, গাড়িতে চড়া , গন্তব্যে পৌঁছে তারা ছুটোছুটি শুরু করে মনের আনন্দে। সংগঠনের উপস্থিত বাকি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদেরকে মিশন হিউম্যানিটির দর্শনীয় ব্যানারটির সামনে এক লাইনে দাড়া করিয়ে, নতুন ঈদের জামা, শিশুতোষ বই, খাওয়া আর সামান্য অর্থ সাহায্য বিতরণ করেন। বাচ্চাগুলো তখনি সব জামা পড়ে নেয় ফটো তুলার জন্য। কে ঠাকুর মার ঝুলি নিবে আর কে মোটুর গল্পের বই নেবে তাই নিয়ে ও বেশ কাড়াকাড়ি চলে, সব মিলিয়ে মিশন হিউম্যানিটির সদস্যরা আরেকটি সুন্দর ঈদ উপহার দিলো ২১ টি শিশু কিশোর কে। পরিচালক মুনা হক এর নেতৃত্বে কাউসার পারভীন চৈতী সহ আরো সদস্য-হানিফ, রুহুল আমিন,হারুন, সুরুজ, মামুন, নাদিম, অর্ণব, এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।অনেক অভিনন্দন – মিশন হিউম্যানিটির পদযাত্রা স্বার্থক হোক, সেই আমাদের শুভ কামনা

ফারহানা পল্লব , টরন্টো, কানাডা থেকে।

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Go top